ফুলের বিবাহ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল
সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
মৌরি একদিন বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাবে। বাবা একদিন ওকে নিয়ে বেড়াতে গেলে সে ভীষণ খুশি হয়। নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে সে অভিভূত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন সে যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে খুবই আনন্দিত হয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়- বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটা বা
ক. 'ফুলের বিবাহ' গল্পে কে ঘটকের দায়িত্ব পালন করে?
খ. ক্ষুদ্র বৃক্ষটি কেন বিরক্ত হয়েছিল?
গ. উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগার বিষয়ের সঙ্গে 'ফুলের বিবাহ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই যেন 'ফুলের বিবাহ' গল্পের মূল চেতনা।" যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।
১ নং প্রশ্নের উত্তর
ক) ফুলের বিবাহ' গল্পে ভ্রমররাজ ঘটকের দায়িত্ব পালন করে।
খ) ভ্রমররাজ অগ্রিম পারিশ্রমিক চাওয়ায় ক্ষুদ্র বৃক্ষটি বিরক্ত হয়েছিল।
কন্যাভারগ্রস্ত ক্ষুদ্র বৃক্ষটির কন্যার বিয়ের ঘটকালির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভ্রমররাজ। ঘটকালির বিনিময়ে ভ্রমররাজ ক্ষুদ্র বৃক্ষটির কাছে আগাম মধু। চেয়েছিলেন। ঘটকালি শুরুর পূর্বেই ভ্রমররাজের পারিশ্রমিক চাওয়ার বিষয়টি ক্ষুদ্র বৃক্ষ ইতিবাচক হিসেবে নেয়নি। এজন্যই ক্ষুদ্র বৃক্ষটি ভ্রমররাজের প্রতি বিরক্ত হয়েছিল।
গ) ফুল ভালো লাগার দিকটিই 'ফুলের বিবাহ' গল্পের সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য। স্থাপন করে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে কমলকাকা কল্পনায় ফুলের বিবাহ দেখেছিলেন। তার কল্পনায় নানারকম ফুল এসেছে। সেই ফুলগুলোর নাম, গন্ধের তারতম্য, বর্ণের রকমফের বর্ণনা ফুল ভালো লাগার দিকটিকেই সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের মৌরি বাবার সঙ্গে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে রংবেরঙের নানা জাতের ফুল দেখে অভিভূত হয়ে পড়ে। ফুলের প্রতি তার ভালোবাস এতটাই প্রগাঢ় হয়ে ওঠে যে, সে বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটি বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। ফুল দেখে অভিভূত হওয়া, বাগান করার সিম্বচ নেওয়া, ফুলের প্রতি মৌরির ভালো লাগাকেই প্রকাশ করে। 'ফুলের বিবাহ' গল্পে কমলকাকাও ফুলের বাগানে বসে ফুলের ভালোবাসায় বিজের। রংবেরঙের নানা গল্পের ফুলে তিনি নিমজ্জিত হয়েছেন, কল্পনায় দেখেছেন ফুলের বিবাহ। অর্থাৎ 'ফুলের বিবাহ' রচনায় ফুলের প্রতি ভালো লাগর দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ফুলের প্রতি মৌরির ভালো লাগার দিকটির সঙ্গে আলোচ্য রচনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ) উদ্দীপকের মৌরির মধ্যে ফুলের প্রতি কৌতূহল ও ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ায় বলা যায় যে, তার প্রতিক্রিয়া আলোচ্য গল্পের কাঙ্ক্ষিত মূল চেতনা।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে নানা জানা-অজানা ফুলের নাম প্রকাশ পেয়েছে। এই ফুলগুলোর রং-রূপ-গন্ধের সংবেদনশীল বর্ণনা রয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ কর্ণনার মাধ্যমে তাদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। ফলে আলোচ্য গল্পটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ফুলের প্রতি মানুষের কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সক্ষম।
উদ্দীপকের মৌরি বোটানিক্যাল গার্ডেনে নানা জাতের ফল-ফুলের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়ে পড়ে, সিদ্ধান্ত নেয় নিজের বাগান করার। মৌরির মধ্যে ফুলের সৌন্দর্যের প্রতি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ সে খুব মনোযোগ দিয়ে বাগান পর্যবেক্ষণ করেছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে বাহারি ফুল নিয়ে কল্পনা, মনোলোভা বর্ণনা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, গল্পের মূল চেতনা ফুলের প্রতি মানুষের মনে অনুরাগ সৃষ্টি। উদ্দীপকের মৌরিও বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে নানা ধরনের ফুল দেখে মুগ্ধ হয়। তার মধ্যেও ফুলের প্রতি তথা সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধতার চেতনা সৃষ্টি হয়। তাই সে বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। সুতরাং যৌক্তিকভাবেই বলা যায়, মৌরির মধ্যে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই 'ফুলের বিবাহ গল্পের মূল চেতনাগান করবে।

