মংডুর পথে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ০১. নারকেল শ্রীলংকানদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। নারকেল তেল ছাড়া তারা কোনো খাবার রান্না করে না। কারিতে নারকেল তেল ছাড়াও গুঁড়া শুঁটকি মাছ ব্যবহার করা হয়। এই গুঁড়া শুঁটকিকে তারা মসলার অংশ হিসেবে দেখে। এরা রান্নায় প্রচুর মসলা এবং লাল মরিচ ব্যবহার করে।
২. শ্রীলংকার রাস্তায় যেসব তরুণী চলাচল করে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ অতি সাধারণ। দামি পোশাক ও সাজগোজের দিকে তাদের যথেষ্ট আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না। স্পষ্টতই মনে হয়, এরা জীবন-যাপনে সহজ-সুন্দর এবং এতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
ক. সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো বস্তুটির নাম কী?
খ. 'ব্যান্ডেল রোড তাদের স্মৃতি বহন করছে'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপক-১-এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তার বর্ণনা দাও।
ঘ. মিয়ানমারবাসীর জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পুরো দিকটিই উদ্দীপক-২-এ প্রকাশ পেয়েছে- 'মংডুর পথে' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক) সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো বস্তুটির নাম চীবর।
খ) “ব্যান্ডেল রোড তাদের স্মৃতি বহন করছে” বলতে পাদরি ও পর্তুগিজদের চট্টগ্রামে বসবাসের স্মৃতিকে বোঝানো হয়েছে। তারা বহু আগে এ পথে চট্টগ্রামে এসে বসতি গড়ে তোলে। তাই ব্যান্ডেল রোড তাদের স্মৃতির নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
গ) উদ্দীপক-১-এ ‘মংডুর পথে’ ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভ্রমণকাহিনিতে মংডুর বাড়ির সামনে সারি সারি নারকেল গাছ, অর্কিড ফুল ও সুন্দর পরিবেশের বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে উদ্দীপকেও শ্রীলংকার সঙ্গে নারকেলের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া নারকেলতেল, মসলা ও সাল মরিচ দিয়ে রান্নার বিষয়টি চাকমা-মারমাদের খাবারের বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ‘মংডুর পথে’ ভ্রমণকাহিনির প্রকৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির দিক ফুটে উঠেছে।
ঘ) উদ্দীপক-২-এ মিয়ানমারবাসীদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পুরো দিকটি প্রকাশ পেয়েছে—এই মন্তব্যটি যথার্থ নয়। কারণ এখানে শুধু শ্রীলংকার মেয়েদের সাধারণ পোশাক-পরিচ্ছদের কথা বলা হয়েছে এবং তাদের সহজ-সরল জীবনযাপনের একটি অংশমাত্র তুলে ধরা হয়েছে।
যদিও শ্রীলংকার মেয়েদের জীবনধারার সঙ্গে মিয়ানমারের মানুষের কিছুটা মিল থাকতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণ সংস্কৃতি বা জীবনযাত্রাকে নির্দেশ করে না। ‘মংডুর পথে’ রচনায় মিয়ানমারের জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য, ধর্ম, প্রকৃতি ও সামগ্রিক জীবনচিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
তাই বলা যায়, উদ্দীপক-২-এ মিয়ানমারবাসীদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পূর্ণ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি এবং মন্তব্যটি সঠিক নয়।

