বাংলা নববর্ষ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ০১: সীমা ও চৈতি দুই বান্ধবী। আজ তাদের খুব আনন্দের দিন, কারণ আজ নববর্ষ। তারা দুইজনে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে চলে যায় রমনার বটমূলে। সেখানে কত মানুষের ভিড়। ছেলে, মেয়ে, শিশু, বুড়ো, সবাই সেজেছে নতুন সাজে। সেখানে সীমার খালাতো বোন তন্বীর সাথে দেখা। সীমা খালা-খালু সবার খোঁজ পেল তন্বীর কাছ থেকে। ছোট খালাতো বোনের জন্য কিনে দিল নানান খেলনা। নিজের বাড়ির জন্য কিনে নিল কুলা, ঝুড়ি, হাঁড়ি, পাতিল ইত্যাদি। চৈতি মনের আনন্দে গেয়ে উঠল:
তাপস নিশ্বাস ব্যয়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
ক. ছায়ানট কত সাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে?
খ. হালখাতা বলতে কী বোঝায়?
গ. চৈতির গানে বাংলা নববর্ষের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধের মূল সুরটিই যেন ফুটে উঠেছে। - এ মন্তব্যের মূল্যায়ন কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক) ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে।
খ) হালখাতা হলো পহেলা বৈশাখে আয়োজিত অনুষ্ঠানবিশেষ।
হালখাতা অনুষ্ঠানটি করতেন ব্যবসায়ীরা। মানুষ সারাবছর ধরে বাকিতে দোকান থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করত। পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে দোকানিদের সেই বাকির টাকা মিটিয়ে দিত। হালখাতা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে দোকানিরা তাদের দোকান সাজাতেন। গ্রাহক-খরিদ্দারদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। এ সময় হাসিঠাট্টা, গল্পগুজবের মধ্যে বকেয়া আদায় এবং উৎসবের আনন্দ উপভোগ দুই-ই সম্পন্ন হতো।
গ) চৈতির গানে বাংলা নববর্ষে পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি দূর হয়ে নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশার দিকটি ফুটে উঠেছে। বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রধান জাতীয় উৎসব। এ দিনে মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় এবং সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করে।
উদ্দীপকে সীমা ও চৈতি নববর্ষ উদযাপনের জন্য রমনার বটমূলে যায়। সেখানে চৈতির গানের মাধ্যমে পুরোনো সব জরা-জীর্ণতা দূর হয়ে পৃথিবী নতুনভাবে শুচি-শুভ্র হয়ে উঠুক—এই প্রত্যাশা প্রকাশ পায়। ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধেও নববর্ষকে সকল মানুষের কল্যাণ ও নতুন আশার উৎসব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই উদ্দীপকে প্রবন্ধের কল্যাণ কামনার দিকটিই প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপকে ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের মূল সুরই ফুটে উঠেছে। বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এ দিনে মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় এবং পুরোনো সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা করে।
উদ্দীপকে সীমা ও চৈতি নববর্ষ উপলক্ষে রমনার বটমূলে যায়। সেখানে নানা আয়োজন, মানুষের আনন্দ-উৎসব ও মিলনমেলার চিত্র দেখা যায়। সীমা পরিবারের জন্য বিভিন্ন জিনিস কেনে এবং খালাতো বোনের সঙ্গে দেখা করে সবার খোঁজখবর নেয়। অন্যদিকে চৈতি আনন্দে গান গেয়ে ওঠে, যার মূলকথা হলো—পুরোনো সব দুঃখ ও জরা দূর হয়ে পৃথিবী নতুনভাবে সুন্দর ও পবিত্র হয়ে উঠুক।
‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধেও নববর্ষকে আনন্দ, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনার উৎসব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সবাই নতুন আশায় ও সুখ-শান্তির প্রত্যাশায় নববর্ষ উদযাপন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের মূল ভাব ও সুরই প্রকাশ পেয়েছে।

